হিফয বিভাগ

আদীব হুযুরের চিন্তা ও নির্দেশনা অনুসরণপূর্বক আমাদের লক্ষ্য হলো, তালেবে ইলমদের জন্য এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যাতে আগে তার ফাহমে কোরআন (কোরআনের অর্থ ও মর্মের বুঝ) হাসিল হয়,অতঃপর সে হিফযে কোরআনের পথে অগ্রসর হয়। যাতে বুঝ ও উপলব্ধির সঙ্গে এবং আনন্দঘন পরিবেশে খুব সহজে সে হেফয সম্পন্ন করতে পারে।

আদীব হুযুরের ভাষায়: ‘বর্তমান ব্যবস্থায় হিফযের জন্য সাধারণভাবে একজন তালিবে ইলমের জীবনের তিন থেকে চার বছর সময় ব্যয় হয়, যার কোন প্রয়োজনই নেই। যে কাজ সাধারণত সহজেই ছয়মাস থেকে একবছরে অর্জন করা যায়, কেন তার জন্য জীবনের মূল্যবান তিনচারটি বছর ব্যয় করা হবে! কিন্তু এ জন্য আমাদের কী করতে হবে? কিছুই করতে হবে না, শুধু ছোট্ট একটি কাজ, কর্মের পদ্ধতির একটু পরিবর্তন! আগে কোরআন বুঝতে দাও, তারপর কোরআন হিফয করতে দাও। আল্লাহর রহমতে তোমার ছেলে, তোমার ভাই অতি অল্প সময়ে (দুই মাসে, চার মাসে, ছয় মাসে অথবা একবছরে) হাফিযে কোরআন হয়ে যাবে, ইয়াদসহ। আমরা এমন ছেলেদের নিয়েই তাজরাবা (পরীক্ষানিরীক্ষা) করেছি, যাদের হিফয করার কোন সম্ভাবনা ছিল না, আল্লাহর রহমতে তারা সহজেই হাফিয হয়েছে।’

সেজন্য আমাদের এখানের সাধারণ ব্যবস্থা হলো, যে তালিবে ইলম হিফয করতে চায়, নাযেরা সমাপ্ত করার পর তাকে কিতাব বিভাগে দাখেল করিয়ে নেয়া। তিনচার বছর পর সে যখন কোরআনের প্রতিটি আয়াতের অর্থমর্ম বুঝতে পারবে, এবং কোরআনহিফযের মাহাত্ম ও গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারবে, তখন তাকে নিয়ে হিফযের মেহনত করা। এতে করে খুব অল্প সময়ে ও সহজে আল্লাহর রহমতে সে হাফিযে কোরআন হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। এটি এখন নিছক তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, পরীক্ষিত বাস্তবতা।

তবে কোন কারণে কোন অভিভাবক যদি চান, তার সন্তানকে তিনি প্রচলিত নিয়মে আগে হিফয করাবেন, পরে কিতাব বিভাগে দাখেল করবেন, সে ব্যবস্থাও আমরা আমাদের হিফয বিভাগে রেখেছি। সেক্ষেত্রে আমরা যেহেতু প্রচলিত হিফযব্যবস্থার ‘পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াসমূহ’ সম্পর্কে মোটামুটি ওয়াকিবহাল, সেহেতু সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে, তালিবে ইলম যেন সে সব বিষয় থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকে, সাধ্যের ভেতর সর্বোচ্চ যত্নের সঙ্গে, সর্বোচ্চ মানে ও আনন্দঘন পরিবেশে সে যেন হেফয করতে পারে। আদীব হুযুরের ভাষায়: ‘দেশকে আমরা এমন হাফিয উপহার দিতে চাই, যার পিঠে কখনো বেত্রাঘাত হবে না, যার মুখের হাসি কখনো মলিন হবে না। যার চিন্তা ও চরিত্র, যার রুচি ও মনন কখনো কালিমালিপ্ত হবে না ইনশাআল্লাহ।’

সাধারণ সমাজে ‘আন্তর্জাতিক মানের হাফেয’ নামে যে চটকদার শ্লোগান প্রচলিত, আমরা সেসব শ্লোগানের ঊর্ধ্বে উঠে অভিভাবকদেরকে সাধ্যের ভেতর সর্বোচ্চ মানের প্রতিশ্রুতি দিতে চাই, মানের বিষয়ে আমাদের এখানে কোন শিথিলতা হবেনা ইনশাআল্লাহ।

আর যে অভিভাবকগণ সন্তানকে স্কুলে পড়ানোর পাশাপাশি হিফয করাতে চান, তাদের জন্যও আমাদের এখানে খণ্ডকালীন হিফযের সুব্যবস্থা থাকবে ইনশাআল্লাহ।